সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ০২:২১ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
বেহাল বিহারীপুর সড়ক, দুর্ভোগে কয়েক গ্রামের মানুষ বাহুবলে পূর্ব বিরোধে দফায় দফায় সংঘর্ষ, নিহত ২ আহত ৪০ সাতছড়ি বনে গাছ চুরি,সংবাদ প্রকাশের পর তদন্ত শুরু বিভাগীয় পর্যায়ে চুনারুঘাট ডিসিপি হাই স্কুলের খুদে বিজ্ঞানীদের চমক সাতছ‌ড়ি‌ জাতীয় উদ‌্যান থে‌কে সেগুনগাছ চু‌রি DEMON 71 এর আবারো চমক, বিভাগীয় বিজ্ঞান মেলায় প্রথম স্থান অর্জন স্বর্ণপদক জয় করে আন্তর্জাতিক মঞ্চে যাচ্ছে বাহুবলের “DEMON 71” টিম অ্যাম্বুলেন্স গ্যারেজবন্দি, চালক সংকটে সচল কর্মকর্তার গাড়ি বর্তমানে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি জ্বালানি মজুত আছে একটি শাটার বিকল, দেড় মাস গ্যারেজবন্দি বাহুবল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একমাত্র অ্যাম্বুলেন্স

বাহুবলে আবর্জনার উপর দিয়ে চলছে সড়কের সংস্কার কাজ

এম সাজিদুর রহমান, নিজস্ব প্রতিবেদক : হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল উপজেলার মিরপুর-শ্রীমঙ্গল সড়কের সংস্কার কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগের তদারকি না থাকায় ঠিকাদারের লোকজন মনগড়াভাবে কাজ করছেন। সিডিউল অনুযায়ী কম্পেশার মেশিন দিয়ে সড়ক পরিস্কার করে প্রাইমকোর্ট দেয়ার বিধান থাকলেও তা না করে গাছের পাতা ও ময়লার উপরই চলছে কার্পেটিং এর কাজ। নিয়ম অনুসারে ময়লা ও গাছের পাতা পরিস্কার না করে প্রাইমকোর্ট দেয়ায় কাজের স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

জানা যায়, মিরপুর-শ্রীমঙ্গল সড়কের মুছাই এলাকা থেকে মিরপুর পর্যন্ত প্রায় ১২ কিলোমিটার সংস্কারের কাজ শুরু করেছে হবিগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগ। প্রায় ১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে এ সংস্কার কাজের শুরু থেকেই নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠে। সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্দিষ্ট কোন প্রতিনিধি এবং দায়িত্বশীল কোন ইঞ্জিনিয়ার না থাকায় ঠিকাদারের লোকজন দায়সারাভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। অথচ হবিগঞ্জ জেলা শহরে প্রধান সড়কসহ সবকটি সড়ক ও ব্রীজ কালভার্টের নাজুক অবস্থা বিরাজ করলেও নির্বাহী প্রকৌশলীর এদিকে কোন নজর নেই। নিজের আখের গোছাতে তিনি নিয়মকে অনিয়মে পরিণত করে চলেছেন।

শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সরেজমিনে দেখা গেছে, মিরপুর-শ্রীমঙ্গল সড়কের কামাইছড়া এলাকায় ঠিকাদারের লোকজন গাছের পাতা ও ময়লা আর্বজনা পরিস্কার না করে ওভার-লে এর কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এ সময় নিয়োজিত ঠিকাদারের প্রতিনিধি লেবার সুপারভাইজার কবির মিয়াকে এ অনিয়মের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি কোন সদোত্তর দিতে পারেননি। তিনি জানান, সওজ এর কর্মকর্তাদের কথামতেই তারা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এসময় কাজের স্থলে সওজ এর কোন কর্মকর্তা বা প্রতিনিধিকে পাওয়া যায়নি।

তবে কাজের স্থল থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দুরে অবস্থানকালে মোবাইল ফোনে নির্বাহী প্রকৌশলী সজিব আহমেদের সাথে কথা বললে তিনি এর দায় সওজের উপ-সহকারী প্রকৌশলী জ্যোতিষ গোস্বামীর উপর দায় চাপিয়ে দেন। তিনি জানান, তদারকির দায়িত্বে রয়েছেন উপ-সহকারী প্রকৌশলী জ্যোতিষ গোস্বামী ও শাখা কর্মকর্তারা। তাৎক্ষণিক জ্যোতিষ গোস্বামীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কাজের সাইডে আসতে অপরাগতা প্রকাশ করেন।

পরে এ প্রতিবেদক দেড় কিলোমিটার দুরে গিয়ে ক্যামেরা ভিডিও’র মাধ্যমে তার ভাষ্য নিতে চাইলে তিনি ভাষ্য দিতে অনীহা প্রকাশ করেন। তবে তিনি কাজের অনিয়মের ব্যাপারে কিছুটা ত্রুটি আছে বলে স্বীকার করে জানান, বড় কোন ত্রুটি ছাড়া সামান্য কিছু অনিয়ম থাকতেই পারে। তা তেমন কিছুই না। সংস্কার কাজে ব্যবহৃত নিম্নমানের ইরানী বিটুমিন এবং সামগ্রী ব্যবহার প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলে তিনি সদোত্তর দিতে পারেননি। এমনকি কাজের ব্যবহৃত মিক্সিংয়ে ব্যাপক অনিয়ম ও নিম্নমানের সামগ্রীসহ পরিমাপ মত বালি পাথর বিটুমিন ব্যবহার হচ্ছে না।

প্রায় ১শ কিলোমিটার দুরে সিলেটের লালমাটিয়ায় মিক্সিং করে ট্রাক যোগে কাজের স্থলে নিয়ে আসা হয়। এতে নির্মাণ সামগ্রীর টেম্পার সঠিক থাকে না। প্লানিং মিক্সিংয়ে সওজের প্রতিনিধি থাকার কথা থাকলেও সেখানে কাউকে রাখা হয়নি। যার কারণে ঠিকাদারের লোকজন মনগড়াভাবে কাজ করে যাচ্ছে। নিম্নমানের বিটুমিন, বালি, পাথরের মিশ্রনে সঠিক সিডিউল মাফিক কাজ না হওয়ায় চলমান সংস্কারকৃত সড়কে এবড়ো থেবড়ো ও গুড়ামাটি হয়ে থাকায় যানবাহন চলাচলের সময় চাকার পেশারে প্রায় জায়গাই কাপের্টটিং উঠে যাচ্ছে। ময়লা আবর্জনার উপর দিয়ে কার্পেটিং করায় সড়কের স্থায়িত্ব এবং কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এ ব্যাপারে সড়ক বিভাগ খুবই উদাসীন। কাজের স্থলে টেম্পারিং পরীক্ষা করার যন্ত্র রাখার নিয়ম থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। এমনকি সড়ক বিভাগের কোন তদারকিও নেই।

তথ্য নিয়ে জানা যায়, ওই সড়কের উপর পিএমপি মাইনর এর টেন্ডার করা হয়েছে। তাহলে একই স্থানে দুই বার টেন্ডার আহবান হেতু কি? জানা গেছে বর্তমান নির্বাহী প্রকৌশলী হবিগঞ্জে যোগদানের পরই সড়ক বিভাগের বিভিন্ন সংস্কার ও উন্নয়ন মুলক কাজে অনিয়মসহ নান কেলেংকারী চালিয়ে যাচ্ছেন। তার অনিয়ম অব্যবস্থাপনা আর সরকারী অর্থের যথেচ্ছ ব্যবহার ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। এ ব্যাপারে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু দৃষ্টি কামনা করছেন সাধারণ মানুষ।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

ওয়েবসাইটের কোন কনটেন্ট অনুমতি ব্যতিত কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Design & Developed BY ThemesBazar.Com